Popular posts

Saturday, 10 February 2018

Processor এর Core ব্যাপারটা কি আসলে



আমরা যখন একটা ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ কিনতে যাই তখন সবথেকে বেশি জোর দেই Processor এর উপর। কিন্ত আমরা কি আসলে জানি processor এর কোন জিনিষটার উপর আসলে নির্ভর করে সেটির কর্মক্ষমতা? সব থেকে বেশি অজ্ঞ থাকি এই “Core” ব্যাপারটা নিয়ে। আমরা নিজেরাও আসলে বুঝে উঠতে পারি না আমাদের কোনটা প্রয়োজন, ডুয়াল কোর, কোয়াড কোর, হেক্সা কোর না অকটা কোর। আজকে দেখি কিছু ব্যবচ্ছেদ করতে পারি নাকি এই ব্যাপারটার।

বি:দ্র: আজকে শুধুমাত্র ডেস্কটপ/ল্যাপটপের processor নিয়ে আলোচনা করছি। স্মার্টফোনের processor নিয়ে অন্য একদিন করবো।

প্রথমেই সহজ কিছু ব্যাপার ক্লিয়ার হয়ে নেওয়া যাকঃ

১/ একটা processor এর মধ্যে একটা chip ই থাকে। সেই চিপের মধ্যে ১/২/৪/৬/৮ টা কোর থাকে।

২/ এই মুহুর্তে আপনি হাইয়েস্ট ১৮ core এর chip সমৃদ্ধ processor পাবেন বাজারে। মানে এইটাই সবথেকে আপডেটেড processor বাজারের।

৩/ একটা chipএর প্রত্যেকটা core হচ্ছে একেকটি CPU(central processing unit)। মানে আপনার processorএর করা কাজগুলা এই coreগুলা করে থাকে। মানে এই coreগুলা নষ্ট হয়ে গেলে আপনার processorও নষ্ট হয়ে যাবে, processor কোন কাজ করতে পারবে না।

Speed of the processor: 

সাধারণ যুক্তিতে তাহলে কি বলতে পারি? একটা processorএর core যত বেশি হবে processor তত বেশি স্পিডি হবে। তাই না? আসলে ব্যাপারটা এত সহজও না। হ্যাঁ। বেশি coreসমৃদ্ধ chip processorএর স্পিডের  উপর প্রভাব ফালায় কিন্ত সেটা একটু অন্যভাবে। ধরেন আপনি একটা কাজ করছেন। আর আপনার processorএ core আছে ৮টি। এখন ওই কাজটি যদি তার নিজেকে এই ৮টি core এর মধ্যে ভাগ করে দিতে পারে তবেই আপনি বলতে পারবেন ওই স্পেসিফিক কাজের জন্য আপনার processorএর স্পিড বেশি।

এর বাইরে coreএর clockspeed বলে একটা কথা আছে। সেই clockspeedও processorএর স্পিড বাড়ানো কমানোতে প্রভাব ফালায়। একটা বেশি clockspeedওয়ালা ডুয়াল কোরের processor কমclockspeedওয়ালা কোয়াড কোরের processorএর থেকে বেশি স্পিডি হবে।

Processor’s cache memory:

processorএর নিজস্ব কিছু মেমরি থাকে যেটিতে processor ক্ষণিকের জন্য তার কাজের সুবিধার্থে কিছু তথ্য জমা রাখে। RAM যেভাবে টেম্পোরারিলি কিছু ডাটা স্টোর করে রাখে নিজের প্রয়োজনের স্বার্থে ঠিক তেমনি processorএর cache memoryও নিজের মধ্যে কিছু ডাটা রাখে। cache memory’র লেভেল থাকে L1, L2, L3, L4 এইরকমভাবে। L1, L2, L3, L4 cache memory তে যথাক্রমে প্রসেসরের প্রত্যেকটা কোরে 64kb, 256kb, 20mb, 128mb করে জায়গা থাকে। সাধারণত এখনকার ল্যাপটপ/পিসিতে 3/4mb cache memory সমৃদ্ধ processor থাকে।

Power consumption: 

একটা processorএ core যত বেশি হবে তাতে বিদ্যুৎও তত বেশী লাগবে কারন processor চালু হলে প্রত্যেকটা coreএ আলাদা আলাদা করে বিদ্যুৎ প্রবাহ হয়। সুতরাং স্বভাবতই কোয়াড coreএর একটা processorএর ল্যাপটপ/ডেস্কটপের বিদ্যুৎ খরচ ডুয়াল coreএর একটা processorএর ল্যাপটপ/ডেস্কটপের থেকে বেশী হবে। যদিও চিপমেকাররা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী chip তৈরি করার চেষ্টা করছেন processorএর জন্য। দেখা যাক কি হয় সামনে!

Heat generated by the processor: 

এইখানেও সহজ হিসাব। বেশি coreওয়ালা processor বেশি গরম হবে। কম coreওয়ালা processor কম হবে। যদিও এখন পিসির সাথে বিভিন্ন heat sink, cooling system থাকে processorকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য।

Price:

 বেশি coreওয়ালা পিসির দাম বেশি ব্যাপারটা এমন না। উপরে clockspeedএর কথা বলেছি। এইটাও processorএর দাম নির্ধারণ করে। এর বাইরে আর্কিটেকচারাল ভার্সন, জেনারেশন ইত্যাদিও দাম নির্ধারণ করায়।

Relation of software with the speed of processor: 

উপরে একবার বলেছি, আপনি আপনার processorএ কোন সফটওয়্যার চালাচ্ছেন সেটার উপরেও নির্ভর করবে আপনি কেমন স্পিডি processor পাবেন। আপনার সফটওয়্যার যদি chipএর coreগুলার সবগুলাকে ব্যাবহার করে তবে আপনি বেশি স্পিড পাবেন। এই ধরনের সফটওয়্যারকে বলে multi-threaded software। দুঃখের বিষয় এইরকম সফটওয়্যার অহরহ নাই যেইগুলা chipর সবগুলা coreকে ব্যাবহার করে।

Adobe premier pro, google chrome ইত্যাদি multi-threaded softwareগুলার মধ্যে অন্যতম।  যেমন Adobe premier pro তে আপনি কোন ভিডিও এডিট করলে সফটওয়্যারটি chipএর বিভিন্ন coreকে ভিডিও এডিটের বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার করে বিধায় কাজ করার সময় পিসি হ্যাং করে না। যদি হ্যাং করে থাকে তবে বুঝতে হবে উক্ত সফটওয়্যার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় coreসমৃদ্ধ chipওয়ালা processor আপনি ব্যাবহার করছেন না।

এখন একটু বিশ্লেষণ করি কি কাজের জন্য কি ধরনের processor দরকার। আমাদের প্রয়োজন না হওয়ার পরেও সীমিত জ্ঞানের কারনে প্রয়োজনীয় processor ব্যাবহার না করে শুধু দাম দেখেই processor কিনে পিসি/ল্যাপটপে লাগিয়ে ফেলি। দেখি এখন, কি কাজে কোন processor লাগানো যায়।

Gaming: 

গেমারদের জন্য বেশি coreসমৃদ্ধ processor দরকার। কারন বেশিরভাগ হাই কোয়ালিটির গেইম multi-threaded। সুতরাং একজন গেমারের অবশ্যই বেশি coreসমৃদ্ধ processor ব্যাবহার করা উচিৎ.

Video or audio editing: 

ভিডিও/অডিও এডিটররাও সাধারণত বেশি coreসমৃদ্ধ processor ব্যাবহার করে কারন তাদের বেশিরভাগ সফটওয়্যারই multi-threaded software

Photoshop and design:

যারা ফটোশপের কাজ করেন তাদের বেশি coreএর থেকে বেশি প্রয়োজন বেশি ক্লকস্পিড ও বেশি cache memory সমৃদ্ধ প্রসেসরের। কারন ইনাদের বেশিরভাগ সফটওয়্যার single-threaded। সুতরাং তাদের বেশিরভাগ সফটওয়্যার একটাcore ব্যাবহার করেই কাজ শেষ করে। সুতরাং বেশি coreএর  processorএর খুব বেশি প্রয়োজন তাদের nei. সতরাং তাদের ক্লক স্পিড আর cache memory’র উপরে নজর দেওয়াটাই বেশি দরকার.

এর বাইরে ওয়েব ব্রাউজিং অথবা অফিসিয়াল কাজে খুব বেশি coreসমৃদ্ধ processorএর প্রয়োজন নেই কারন এগুলার বেশিরভাগ কাজই single-threaded। মানে একটা core ব্যাবহার করেই কাজ করে এরা। তাই অযথা বেশি দাম দিয়ে বেশি coreসমৃদ্ধ processor কিনলে খুব বেশি লাভ হবে না আপনার কারন এরা একটা core ব্যাবহার করেই কাজ করবে।

Wednesday, 31 January 2018

সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও বিমানের শ্বাসরুদ্ধকর কিছু ছবি এবং পেছনের কাহিনী


Featured Image

সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও বিমানের শ্বাসরুদ্ধকর কিছু ছবি এবং পেছনের কাহিনী




নানা সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কিংবা দুর্ঘটনাবশত অনেক জাহাজ এবং বিমানের সলিল সমাধি হয়েছে সমুদ্রে। সাগরের তলদেশে ঠাঁই হওয়ার পর এসব জাহাজ কিংবা বিমানের ধ্বংসাবশেষ সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে অনেকখানি। সামুদ্রিক নানা পরজীবীর আক্রমণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে ইতিহাসের নানা ঘটনার সাক্ষী এসব ধ্বংসস্তুপ।

পানির নিচে ফটোগ্রাফি খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে ধীরে ধীরে এবং এর সাথে সাথে বিভিন্ন সময়ে ডুবে যাওয়া এসব জাহাজ এবং বিমান সম্পর্কে জানার সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে। ফটোগ্রাফাররা সাগরে ডুব দিয়ে ক্যামেরায় বন্দী করছেন এসবের ধ্বংসাবশেষ, চিরদিনের মতো হারিয়ে যাওয়ার আগেই। অন্ধকার সমুদ্রগর্ভে এসব ধ্বংসাবশেষের ছবি একধরনের শিহরণ জাগিয়ে তোলে। হতভাগ্য যাত্রীদের এবং ইতিহাসের কোনো একটি অংশের সমাধিস্থল বলা চলে ঐ জায়গাগুলোকে। সেরকমই কিছু ছবি সম্পর্কে বলা হবে। এই তালিকায় আছে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে থেকে ২০-৩০ বছর আগের কোনো দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া জাহাজ কিংবা বিমান।

১. বি-১৭জি ফ্লাইং ক্যাসল (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ)

বি-১৭জি ফ্লাইং ক্যাসলের ধ্বংসাবশেষ; Source: Steve Jones/millionfish.com

১৯৪৪ সালের অক্টোবর মাসের ৩ তারিখে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বি-১৭জি ফ্লাইং ক্যাসল নামক এই বোমারু বিমানটি শত্রুপক্ষের আক্রমণের শিকার হয়। একপর্যায়ে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ক্রোয়েশিয়ার ভিস দ্বীপের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় নিহত হন বিমানটির কো-পাইলট আর্নেস্ট ভিয়েনা। ২০১৬ সালে ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার স্টিভ জোনস এই ছবিটি তোলেন। এত বছর পরেও প্রায় ৭২ মিটার গভীরে মূল আকৃতি অক্ষুণ্ন রেখে এখনও টিকে আছে। ছবিটি তোলার পর বিমানটির কো-পাইলটের পরিবার কথা বলে স্টিভ জোনসের সাথে এবং জানায় এই প্রথমবারের মতো আর্নেস্ট ভিয়েনার সমাধিস্থল দেখতে পেল তারা।

২. ব্রিটিশ সুপার ড্রেডনট এইচএমএস অডেসিয়াস (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ)

ড্রেডনট এইচএমএস অডেসিয়াসের বিশালাকৃতির বর্ম; Source: Steve Jones/millionfish.com

ব্রিটিশ সুপার ড্রেডনট এইচএমএস অডেসিয়াস ছিলো প্রথম ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ যেটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে হারিয়ে যায়। ঐ সময়ে এই ধরনের যুদ্ধজাহাজগুলো ছিলো সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল। বিশাল আকারের কামান, শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং অসাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব মিলিয়ে শত্রুশিবিরে ত্রাস সৃষ্টি করার মতো যা যা দরকার তার সবই ছিলো ওই যুদ্ধজাহাজগুলোতে। কিন্তু ছোট একটা ভুলের কারণে শত্রুপক্ষের মাইনের আঘাতে বিষ্ফোরিত হয় জাহাজটি। ডুবে যাওয়ার আগে জাহাজটিকে যতটুকু সম্ভব আয়ারল্যান্ডে বীচের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি ডুবতে থাকায় শেষপর্যন্ত কর্মকর্তারা জাহাজটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ছবিটিতে যুদ্ধজাহাজটির সিলিন্ডার আকৃতির বিশাল বর্ম দেখা যাচ্ছে। এই ছবিটিও তুলেছেন স্টিভ জোনস। তিনি বলেন, কয়েক বছরের পর প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ডুবে যাওয়া এসব জাহাজের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না সমুদ্রগর্ভে।

৩. সালেম এক্সপ্রেস (১৯৯১)

লোহিত সাগরে ডুবে যাওয়া সালেম এক্সপ্রেস; Source: Adam Horwood

১৯৯১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে মিশরের সাফাগা থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরে যাওয়ার পথে লোহিত সাগরে সালেম এক্সপ্রেস নামক একটি ফেরি ডুবে যায়। লোহিত সাগরের প্রবাল-প্রাচীরের সাথে ধাক্কা খেয়েছিলো ফেরিটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৬৯০ জন যাত্রী ছিলো ওই ফেরিটিতে এবং ধারণা করা হয় কমপক্ষে ৪৭০ জনের মতো মারা গিয়েছিলো ওই দুর্ঘটনায়। ২০১০ সালে ফটোগ্রাফার অ্যাডাম হরউড যখন ছবি তোলার জন্য প্রায় ৬০-৭০ মিটার নিচে ফেরিটির কাছে পৌঁছান, তখন তিনি যাত্রীদের ব্যবহার্য অনেক জিনিসপত্র দেখতে পান। সেখানে গিয়ে এক আশ্চর্য বিষাদে ভরে ওঠে মন। তার ভাষ্যমতে, সময় যেন সেখানে স্থির হয়ে আছে।

৪. গিয়ানিস ডি (১৯৮৩)

ডুবে যাওয়া গিয়ানিস ডি জাহাজের ভিতর থেকে তোলা হয়েছে ছবিটি; Source: Anders Nyberg

গিয়ানিস ডি হচ্ছে একটি জাপানে তৈরী কার্গো জাহাজ। ১৯৮৩ সালের এপ্রিলে জাহাজটি যুগোস্লাভিয়ার রিজেকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো। সুয়েজ খাল হয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিলো জাহাজটির। সুয়েজ খাল পার হয়ে জাহাজটি যখন লোহিত সাগরে এসে পড়লো তখন জাহাজের ক্যাপ্টেন জুনিয়র এক অফিসারকে সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে কেবিনে গেলেন একটু বিশ্রাম নিতে। কিছুক্ষণ পর  তিনি বুঝতে পারলেন জাহাজটির সাথে কিছু একটার ধাক্কা লেগেছে। কেবিনের বাইরে বের হয়ে দেখলেন গতিপথ পাল্টে গিয়ে জাহাজটি সাদ আবু নুহাস প্রবাল-প্রাচীরের উপর দিয়ে পূর্ণ গতিতে চলছে! প্রবাল-প্রাচীরের ধাক্কায় এরপরই কার্গো জাহাজটি ডুবতে শুরু করে। যদিও এই ঘটনায় কেউ মারা যায়নি। প্রায় ২৪ মিটার গভীরে থাকা এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পর্যটকদের জন্য এখন একটি আকর্ষণীয় জায়গা। ছবিটির ফটোগ্রাফার অ্যান্ডার্স নাইবার্গ যেকোনো খুটিনাটি বিষয় ক্যামেরাবন্দী করতে পছন্দ করেন আলোর কারসাজির মাধ্যমে। এই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, জাহাজের বাইরে থেকে আলো জানালাগুলো দিয়ে ভিতরে আসছে যা পানির নীচের অন্ধকারকে দূর করে ছবিটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

৫. এসএস হর্নস্টেইন (১৯০৫)

এসএস হর্নস্টেইন; Source: Anders Nyberg

এসএস হর্নস্টেইন ছিলো একটি জার্মান কার্গো স্টিমার। এটি বাল্টিক সাগরে যাতায়াত করতো। ১৯০৫ সালের ১৬ নভেম্বর সালভো প্রাচীরের কাছে প্রবালের ধাক্কায় ডুবে যায় এই কার্গো স্টীমারটি। ডুবে থাকা স্টিমারটির ধ্বংসাবশেষের এই ছবিটিও তোলেন অ্যান্ডার্স নাইবার্গ। তার মতে, সাগরের নিচে এ ধরনের ছবির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ধ্বংসাবশেষের গায়ে জমে থাকা শ্যাওলা, প্রবাল, রং-বেরংয়ের নানা সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি। ছবি তোলার সময় হঠাৎ তার চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিলো একধরনের উজ্জ্বল নীল আলো এবং পরে দেখা গেলো এই আলো আসছে এক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের চোখ থেকে, যা তাদেরকে শিকারকে কাবু করতে সহায়তা করে। সমুদ্রতলের ফটোগ্রাফিতে এগুলো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

৬. ট্রাক লেগুন দ্বীপের কাছে জাহাজ এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ

নিকটতম দেশ থেকেও হাজার মাইল দূরে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে চুক লেগুন নামক দ্বীপে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক অনন্য নিদর্শন। পূর্বে এই দ্বীপটির নাম ছিল ট্রাক লেগুন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রাক লেগুনে ছিল জাপানের প্রধান এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি, যেখান থেকে সবরকম অপারেশন পরিচালনা করা হতো। যুদ্ধের একপর্যায়ে আমেরিকা যখন প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো দখল করে নিয়ে ঘাঁটি স্থাপন করা শুরু করলো, তখন জাপানের আধিপত্য ক্রমেই কমে আসতে লাগলো। এই সুযোগে আমেরিকা আক্রমণ করলো জাপানের ট্রাক লেগুন ঘাঁটিতে, যা পরিচিত অপারেশন হেইলস্টোন নামে। ১৯৪৪ সালের ১৭ এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি এই দুদিন ধরে চলে জাপানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই অপারেশন। জলপথ এবং আকাশপথ উভয়দিক দিয়ে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৬০টির মতো জাপানী জাহাজ এবং কমপক্ষে ২৫০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে আমেরিকান বাহিনী।

এভাবেই ছড়িয়ে আছে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষে; Souce: NIck Blake/Barcraft Media

ট্রাক লেগুন দ্বীপটির আশেপাশে ছড়িয়ে আছে এসব জাহাজ এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ। সমুদ্রের নিচে এটাই জাহাজ এবং বিমানের সবচেয়ে বড় সমাধিস্থল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দলিলের একটি। অনেক বোমা থাকার কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত ডুবুরীরা এই জায়গাটিতে যাওয়ার সাহস পেত না। তবে সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে পর্যটক, ডুবুরী এবং ফটোগ্রাফারদের কাছে ট্রাক বা চুক আইল্যান্ডে খুবই জনপ্রিয় একটি স্থান।

গোসেই মারু নামক একটি জাহাজের অভ্যন্তরভাগ দেখছেন একজন ডুবুরী; Souce: NIck Blake/Barcraft Media

ধ্বংসাবশেষের মধ্যে এখনো পাওয়া যায় নিহত জাপানী সৈন্যদের মাথার খুলি কিংবা অন্যান্য হাড়গোড়। অনেক ডুবুরীকে সেগুলো তুলে নিয়ে আসতেও শোনা যায়!

জাহাজের অভ্যন্তরে নিহত জাপানী সৈন্যদের মাথার খুলি (১৯৮০-১৯৯০); Source: Amos Nachoum/Corbis

ডুবে যাওয়া কোনো একটি জাহাজের বাথরুম; Source: Design Pics Inc / Rex Features

পুরো জায়গা জুড়ে রয়েছে এরকম আরও যুদ্ধজাহাজ; Source: Alamy

ডুবে যাওয়া একটি সাবমেরিনের ভিতরে একজন ডুবুরী; Souce: NIck Blake/Barcraft Media

ফিচার ইমেজ © Dive Photo Guide

Saturday, 13 January 2018

সাইনোসেফালি: ইতিহাসের রহস্যময় কুকুরমুখো মানুষেরা

অদ্ভুত রহস্যময় আমাদের এই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে নানা রহস্যময় জিনিস, যার কোনোটির রহস্য হয়তো মানুষ জানতে পেরেছে আবার কোনোটির পারেনি। বহুকাল ধরেই মানব ইতিহাসে বহু রহস্যময় প্রাণীর খবর পাওয়া গেছে। যেমন- ড্রাগন, বিগফুট, ইয়েতি, ওয়্যারউলফ ইত্যাদি। এসব প্রাণীর বেশির ভাগই কাল্পনিক। তবে ইতিহাসের বহু গল্প, উপকথা কিংবা ভ্রমণকাহিনীতে এমন কিছু রহস্যময় প্রাণীর কথা উল্লেখ রয়েছে যাদেরকে শুধু কাল্পনিক বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

সাইনোসেফালি শুধু গল্প কিংবা কল্পনা নয়; Source: getwallpapers.com

এদের সম্পর্কে ইতিহাসে রয়েছে নানা প্রমাণ, নানা দলিল। বিখ্যাত বহু পর্যটকও যাদের কথা উল্লেখ করছেন। তেমনই এক প্রাচীন রহস্যময় প্রাণী জাতি হলো ‘সাইনোসেফালি’ বা কুকুরমুখো মানুষ। কুকুর বা শেয়ালের মতো মাথাওয়ালা মানুষ হিসেবেও এরা পরিচিত। বহুকাল আগে পৃথিবীর বুকে বিচরণ ছিল এই রহস্যময় কুকুরমুখো মানবদের। চলুন আজকে জেনে নিই এই রহস্যময় সাইনোসেফালি সম্পর্কে।

কারা এই সাইনোসেফালি?

সাইনোসেফালি (Cynocephali) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ‘cyno’, যার অর্থ কুকুর এবং ‘cephaly’, যার অর্থ একধরনের মাথার অসুখ, এই দুটি গ্রীক শব্দ থেকে। সাইনোসেফালি দ্বারা এমন এক রহস্যময় মানব গোষ্ঠীকে বোঝানো হয় যাদের মাথা কুকুর কিংবা শেয়ালের মতো। তারা মানুষের ভাষা বুঝতে পারতো তবে কথা বলতে পারতো না। যদিও ইতিহাসের কিছু কিছু জায়গায় এদের সভ্য মানুষের মতো সামাজিক ভাবে বসবাস করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে বেশীরভাগ ইতিহাসবিদের মতে তারা ছিল বর্বর পশুদের মতো, যারা প্রধানত শিকার করে জীবনধারণ করতো।

একটি সাইনোসেফালাস; Source: wikimedia.org

এটুকু শুনেই আপনার হয়তো মনে হচ্ছে ড্রাগন, ওয়্যারউলফের মতো এটিও কোনো এক কাল্পনিক গালগল্প! কিন্তু না, সাইনোসেফালিদের অস্তিত্ব বিশ্বাস করার মতো বহু কারণ ইতিহাসবিদদের কাছে রয়েছে। বহু বিখ্যাত পর্যটক ও অভিযাত্রী, যেমন ক্রিস্টোফার কলোম্বাস, মার্কো পোলো এই সাইনোসেফালির বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়াও প্রাচীন মিসর, গ্রীস, মধ্যযুগীয় ইউরোপ ও আফ্রিকার মতো বহু প্রাচীন সভ্যতায় এবং খ্রিস্টীয় পুরানে এদের কথা উল্লেখ রয়েছে।

ইতিহাসে সাইনোসেফালি

খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে বিখ্যাত গ্রীক ডাক্তার সিটেসিয়াস সাইনোসেফালিদের বিশদ বিবরণ সহ চমৎকার একটি প্রতিবেদন লেখেন। তৎকালীন ভারতের পাহাড়ে দেখতে পাওয়া সাইনোসেফালি সম্পর্কে তিনি তার লেখায় বর্ণনা দেন। সে সময় ভারত ‘ইন্ডিকা’ নামে পরিচিত ছিল। তার লেখায় তিনি এক ধরণের মানব উপজাতির কথা বলেন যাদের মাথা ছিল কুকুরের মতো। তারা কুকুরের মতো ‘ঘেউ ঘেউ’ করে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতো। তবে এরা মানুষের কথা ঠিকই বুঝতে পারতো। এদের প্রধান খাবার ছিল মাংস। এদের দাঁত ছিল কুকুরের মতো, তবে কিছুটা লম্বা। নখগুলো ছিল লম্বা ও বাঁকানো।

ফলের বিনিময়ে অন্যান্য দ্রব্য কিনতো সাইনোসেফালিরা; Source: mysteriousuniverse.org

বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি জেনেছিলেন, এরা মূলত শিকার করে জীবনধারণ করতো। শিকার ধরার পর তা মেরে রোদে ঝলসিয়ে খেতো তারা। এরা ভেড়া ও ছাগল পালন করতো। এছাড়া তৎকালীন ভারতে জন্মানো ‘সিপ্তাখোরা’ নামের একটি ফল ছিল এদের খুব প্রিয়। এরা এই ফলের চাষ করতো এবং উৎপাদিত ফলের বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে রুটি, ময়দা, সুতা সহ তরবারি, ঢাল, তীর, ধনুক প্রভৃতি জিনিস কিনতো। সিটেসিয়াস তার লেখায় আরো জানান,

“তারা বাড়িতে নয় বরং গুহায় বাস করতো। তীর-ধনুক নিয়ে শিকারকে তাড়া করতো। এরা ছিল খুব দ্রুত গতিসম্পন্ন। খুব দ্রুতই এরা এদের শিকারকে ধরে ফেলতে পারতো। এদের মধ্যে নারীরা মাসে একবার গোসল করতো, তবে পুরুষেরা কখনো গোসল করতো না। এরা চমৎকার চামড়ার তৈরি পোশাক পরতো। এদের মধ্যে যারা ধনী ছিল তারা কেউ কেউ লিলেনের পোশাকও পরতো। ঘুমানোর জন্য এদের কোনো বিছানা ছিল না। এরা ঘাসের উপরে ঘুমাতো। যার সবচেয়ে বেশি ভেড়া থাকতো তাকেই সবচেয়ে ধনী হিসাবে ধরা হতো। নারী পুরুষ উভয়েরই পেছনের দিকে কুকুরের মতো লম্বা লেজ ছিল। তবে এই লেজ কুকুরের লেজের চেয়ে বেশি লম্বা ও লোমশ হতো। স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে এদের আয়ু ছিল অনেক বেশি। গড়ে ১৭০-২০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতো এরা।”


তৎকালে ভারত ছিল সাইনোসেফালিদের প্রধান বাসস্থান। গ্রীক অভিযাত্রী ‘মেগাস্থিনিস’ও ভারতে কুকুরের মতো মাথাযুক্ত এক ধরনের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ লাভের কথা উল্লেখ করেন। দার্শনিক ‘ক্লাউডিয়াস অ্যালিয়েনাস’ তার লেখায় ভারতের এই কুকুরমুখো মানুষের কথা উল্লেখ করেন, যারা রোদে শুকানো মাংস খেয়ে বেঁচে থাকতো এবং ছাগল ও ভেড়া পালন করতো। এছাড়াও আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট তার গুরু অ্যারিস্টটলকে লেখা কয়েকটি চিঠিতে দাবি করেন যে,  তিনি খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে যখন ভারত আক্রমণ করেছিলেন তখন এমন অনেক কুকুরের মতো মাথা যুক্ত মানুষ দেখেছিলেন।

যুদ্ধে অংশ নিত সাইনোসেফালিরা; Source: wikimedia.org

তিনি আরো বলেন, যুদ্ধে অংশ নেয়া এমন মাথাযুক্ত কয়েকটি মানুষকে তিনি আটকও করেছিলেন, যারা রেগে গিয়ে কুকুরের মতো ‘ঘেউ ঘেউ’ শব্দ করতো। গ্রীক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাসও তার লেখায় এদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,

“লিবিয়ার উত্তরদিকে নিচু বেলেমাটির স্থানে যেখানে মেষপালকদের বাস, সেখান থেকে পশ্চিমে ট্রাইটন নদী পর্যন্ত পাহাড়ি জঙ্গলে নানা পশু বাস করে। এখানে কুকুরের মতো চেহারার মানুষ দেখতে পাওয়া যায়। লিবিয়ার অধিবাসীদের মতে, এদের চোখ দুটি বুকে অবস্থিত।”


এমনই বহু শতাব্দী ধরে বহু বীর যোদ্ধা, বহু মিশনারি, বহু অভিযাত্রীর বর্ণনায় উঠে এসেছে এই সাইনোসেফালির কথা। পরবর্তী সময়ে রোমান লেখক, পরিবেশবিদ ও দার্শনিক প্লিনি দ্য এল্ডার তার ‘ন্যাচারাল হিস্টোরি’ বইতেও এদের কথা লিখেছিলেন। তিনি এদেরকে রহস্যময় এক মানব সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এদের ‘দ্য মনস্ট্রোয়াস রেস’ নামে আখ্যা দেন।

সেইন্ট ক্রিস্টোফার; Source: wikimedia.org

সাইনোসেফালির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন খ্রিস্ট ধর্মের সেইন্ট ক্রিস্টোফার। বহু লেখায় উল্লেখিত বর্ণনা অনুসার, ক্রিস্টোফারের দেহ ছিল মানুষের মতো, কিন্তু মাথা কুকুরের মতো, অর্থাৎ তিনিও ছিলেন সাইনোসেফালির একজন। শুধু তা-ই নয়, এই ধর্মীয় ব্যক্তি পূর্বে ছিলেন একজন বন্য ও দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, যিনি ‘সাইরেনাইকার’ যুদ্ধে বন্দি হন। বর্ণনা মতে, তিনি ছিলেন কুকুরের মতো মাথাবিশিষ্ট বিশালদেহী এক মানুষ এবং সাইনোসেফালির একটি যোদ্ধা গোত্রে তার জন্ম হয়েছিল। খ্রিস্টীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ক্রিস্টোফার যিশু খ্রিস্টের সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং পরবর্তীতে পূর্বের পাপকাজ পরিত্যাগ করে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা নেন। বহু ঐতিহাসিক চিত্রকর্মে কুকুরমুখী এই সন্ন্যাসীর ছবি রয়েছে।

বিভিন্ন পর্যটকের বর্ণনার সাইনোসেফালি; Source: mysteriousuniverse.org

এসব তো গেলো প্রাচীন যুগের কথা। পরবর্তী যুগে ইতালিয়ান সন্ন্যাসী ‘ওডোরিক ওফ পর্ডেনান’, ফ্রেঞ্চ কার্ডিনাল ‘পিয়ের ডি অ্যালিয়ে’, পর্যটক ‘জিওভানি ডা পিয়ান ডেল কার্পাইন’ সহ বহু বিখ্যাত অভিযাত্রী ও পর্যটকেরাও বর্ণনা করেছেন এই সাইনোসেফালির কথা। বিখ্যাত পর্যটক মার্কো পোলো তার লেখায় ‘আনগামানিয়ান’ দ্বীপ ভ্রমণের সময় সাইনোসেফালি সম্পর্কে লিখেছেন,

“আনগামানিয়ান একটি বিশাল দ্বীপ। এই দ্বীপের অধিবাসীরা মূর্তিপূজারী। এদের কোনো রাজা নেই। বন্য পশুর থেকে কোনো অংশেই কম নয় এরা। আমি আপনাদের নিশ্চিতভাবে বলছি, এই দ্বীপের সব অধিবাসীই মাথা, দাঁত ও চোখ কুকুরের মতো। বলা যায় চেহারার দিক দিয়ে এরা বড় আকারের কুকুর। এদের অনেকগুলো প্রজাতি রয়েছে। তবে এরাই সবার চেয়ে বেশি হিংস্র। নিজের মতো ছাড়া অন্য আর যা কিছু এদের সামনে আসুক না কেন এরা তা ধরে খেয়ে ফেলে।”


শুধু মার্কো পোলোই নয়, বিখ্যাত অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাসও এই সাইনোসেফালির কথা উল্লেখ করছেন। তিনি এক অভিযানে হাইতি, যা তৎকালীন সময়ে বোহিও নামে পরিচিত ছিল সেখানে গিয়ে এমন কুকুরের মতো মাথা যুক্ত মানুষ দেখতে পান। রানী ইসাবেলাকে লেখা চিঠিতে তিনি এদের কথা উল্লেখ করেন।

ইতিহাসের বহু স্থানে স্থান পাওয়া এই সাইনোসেফালির দেখা মিলেছিল প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতাতেও। মিশরীয়দের ‘হাপি’ ও ‘আনুবিস’ নামের দুজন দেবতাও ছিল এমন কুকুরের মতো মাথা বিশিষ্ট মানুষ অর্থাৎ সাইনোসেফালি।

মিশরীয় দেবতা আনুবিসের মূর্তি; Source: wikimedia.org

ইতিহাসের এত বেশি স্থানে এবং এত বিখ্যাত সব ব্যক্তির বর্ণনায় এদের উল্লখে রয়েছে যে, এদের অস্তিত্ব চাইলেই গবেষকরা অস্বীকার করতে পারেন না। তবে এই ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী জাতির কী হয়েছিল তা আজও কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারে না। ধারণা করা হয়, আশেপাশের সাম্রাজ্যগুলোর বিস্তারের সাথে সাথে এদেরকে হত্যা করা হয়। এরা এমনই এক যোদ্ধা জাতি ছিল যারা অন্যের শাসন, পরাধীনতা কিংবা অন্যের আচার আচরণ মেনে চলার চেয়ে মৃত্যুবরণ করাকেই বেশি সম্মানের মনে করতো। ফলে হয়তো বিভিন্ন শক্তিশালী ও বড় জাতির হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল এদের। তবে যা-ই হোক না কেন, মানুষের দৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ রূপে আড়াল হয়ে গেছে এই সাইনোসেফালিরা। হয়তো সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এরা। কিংবা কে জানে, হয়তো আজও এদের কেউ কেউ বেঁচে আছে, লুকিয়ে আছে কোনো দুর্গম গুহায় লোকচক্ষুর আড়ালে!

ফিচার ইমেজ – tattoo.ru