Popular posts

Saturday, 10 February 2018

ফ্লামিংগ পাখির অভয়ারণ্য লবণাক্ত ও ক্ষারীয় হ্রদঃ “নাট্রন হ্রদ”

প্রকৃতি বরাবরের মতোই বিস্ময় জাগানিয়ার জন্ম দেয় প্রতিনিয়ত এবং তাঁরই কিছু নমুনা আমাদের চোখে ধরা পড়ে যার অনেক কিছুই আমাদের কাছে নাটকীয় মনে হয়। তেমনই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো কেনিয়া সীমানার কাছাকাছি উত্তর তাঞ্জানিয়ার আউশ অঞ্চলে অবস্থিত একটি লবণ ও খনিজ সোডাসমৃদ্ধ “নাট্রন হ্রদ” (Lake Natron) যার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে কেউ সংস্পর্শে গেলে বা সাতার কাটলে খুব অল্প সময়েই মাত্রাতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত লবণের ক্রিয়ায় মৃত্যু অনিবার্যিত। যার কারণে উক্ত লেকে সাতার কাঁটা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কেনো এতোটা বিপদজনক এই ক্ষারযুক্ত লবণ তার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানানো যায়, শুষ্ক মৌসুমে যখন হ্রদের পানি শুকিয়ে যায় তখনই বৃদ্ধি পেতে শুরু করে লবণাক্ততার মাত্রা। এ সময়ে হ্রদটির জলের গভীর অংশটুকু লাল বর্ণের এবং অগভীর অংশটুকু থাকে কমলা বর্ণের যার কারণ হলো “হ্যালোফিল” নামক এক প্রকার জীবাণু। এই হ্যালোফিল ক্ষারযুক্ত লবণের উপরে জন্মানো একপ্রকার সুগন্ধি ফুল উদ্ভিদের সাথে উৎপন্ন করে সাইনোব্যাক্টেরিয়া যা উদ্ভিদ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এই হ্রদটির উপরের আবরণ ক্ষারযুক্ত লবণের দ্বারা তৈরি এবং প্রায় লাল বা গোলাপী রঙের হয়। বলাবাহুল্য, এই হ্রদটির ক্ষারযুক্ত লবণের আস্তরণ এতোটাই বিপদজনক যে এর সংস্পর্শে আসা প্রাণী মুহূর্তেই মারা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া এই লেকের ভূপৃষ্ঠ হতে নির্গত হয় শক্তিশালী বিষাক্ত গ্যাস “হাইড্রোজেন সালফাইড”যাকে আমরা চিনি লাফিং গ্যাস নামে। এই গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় মানুষ অতিমাত্রায় হাসতে হাসতে একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ে।

নাট্রন হ্রদ
Source: InspirationSeek.com

কথা হচ্ছিলো পৃথিবীর প্রায় ৭৫ ভাগ ফ্লামিংগের (পাখিবিশেষ) জন্মস্থান এই নাট্রন হ্রদকে নিয়ে, যার আয়তন প্রায় ১০৪০ বর্গ কিঃমিঃ এবং উচ্চতা ৬০০ মিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এবং জলের স্তরের উপর নির্ভর করে এর প্রশস্ততার বিস্তার ঘটে (দৈর্ঘ্যে সর্বোচ্চ ৫৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই হ্রদ)।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই হ্রদটির উৎপত্তি দক্ষিণ ইয়াভা নেভিরো নদী হতে। উক্ত স্থান হতে আসা স্বল্পমাত্রায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং কার্বোনেট সমৃদ্ধ “গেলাও” আগ্নেয়গিরির লাভা জমাট হয়ে থাকে। মাত্র তিন মিটার গভীরতা সম্পন্ন এই হ্রদটি বেশ উষ্ণ, যার তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৬০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে এবং এই হ্রদটি খনিজ সমৃদ্ধ এবং পার্শ্ববর্তী স্থান জুড়ে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হয়। উচ্চমাত্রার ন্যাট্রন (সোডিয়াম কার্বোনেট ডায়াহাইড্রেট) এবং ট্রোনা (সোডিয়াম সেসিকোকার্টাউটি ডায়াডরেট) এর কারণে এই হ্রদের ক্ষারীয়তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি যার মাত্রা ১০.৫ হতে ১২ পিএইচ যা সমুদ্রের লবণাক্ততাকেও হার মানায়। এই প্রতিকূল অবস্থায় অ্যালকাপিয়া গ্রামারি, অ্যালকাপিয়া লাতিলাব্রিস, ন্ডালালানী প্রজাতির মাছের বসবাস এই হ্রদে এবং পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ ফ্লামিংগ পাখির প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবেও এই হ্রদটি সুপরিচিত।

এবার আসি এই হ্রদের বেশকিছু অবাক করা তথ্য সম্পর্কে-

এই হ্রদটির কোনো সীমা নাই অর্থাৎ এই হ্রদটির সাথে কোন নদী বা সাগরের সংযোগস্থল নাই যার ফলে বাইরের কোন নদী বা সাগরের পানি এতে মেশে না।

ফ্লামিংগ প্রজাতির পাখিদের এই হ্রদকে নিজেদের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে নির্দিষ্ট করার পিছে রয়েছে আরেক কারণ যা হলো নাট্রন হ্রদের পরিবেশ যথেষ্ট প্রতিকুল আর অন্যান্য শিকারী প্রাণীদের এখানে বেঁচে থাকার অনুপযোগী। যার ফলে ফ্লামিংগরা থাকে নিরাপদ। তাছাড়া উচ্চমাত্রার লবণ এবং তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও এই পানি তারা অনায়াসে পান করতে পারে। ঠিক এ কারণগুলোর জন্যেই এমন একটা স্থানকেই ফ্লামিংগ পাখিদের প্রজননের জন্য বেছে নেয়ার মূল কারণ।

ফ্লামিংগো প্রজাতির পাখি
Source: Smithsonian Magazine

কথিত আছে এই হ্রদটির লবণাক্ততা এতোই তীব্র যার কারণে এর সংস্পর্শে কোন প্রাণী আসামাত্রই পাথরে পরিণত হয়ে যায়। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে ধুসর রঙের ফ্লামিংগ পাখি, বাদুরসহ বেশকিছু প্রাণীর জমে যাওয়া দেহাবশেষ, যা হয়তো পানিতে ভাসছে বা ডালে বসে আছে, হেটে চলছে এ হতে অনেকেই ধারণা করে বসেন এসব প্রাণী যখনই লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসেছে তখনই মারা গিয়েছে এবং পাথরে পরিণত হয়ে গিয়েছে। কিছু মিডিয়া রিপোর্ট ব্যতীত এটা সত্য যে, এসব প্রাণীর মৃত্যু হ্রদের লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসা নয় বরং এর কিছু যৌক্তিক কারণ হিসেবে বলা যায়, নাট্রন হ্রদের পিএইচের মাত্রা প্রায় ১০.৫ বা এর কিছু বেশি আর এই পানির সাথে অভ্যস্ত নয় এমন কেউ এর সংস্পর্শে আসা মাত্র চোখ এবং চামড়া মুহূর্তেই ঝলসে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। হ্রদের ক্ষারযুক্ত পদার্থ মূলত সোডিয়াম কার্বোনেট এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ হতে উৎপন্ন হয় যা আসে হ্রদের চারপাশের ঘেরাও করা পাহাড়-পর্বত হতে। সোডিয়াম কার্বোনেট – যা মিশরের মমি তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো – এক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে সেসব পশুপাখির মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য যারা অসাবধানতা এবং দুর্ভাগ্যবশত নাট্রন হ্রদে মারা যায়। এই নাট্রন হ্রদের ক্ষারীয়তা বরঞ্চ এটা জীবনদান করে লবণাক্ত জলাভূমি, স্বচ্ছ পানির জলাভূমি, ফ্লামিংগ এবং জলাভূমির পাখিদের প্রজনন ও খাদ্য উৎপন্ন করত: ইকোসিস্টেমের ব্যালেন্স রক্ষার্থে সহায়তা করে।

তবে, ইন্টারনেটে পাওয়া সেসব ধূসর প্রাণীগুলোর কিভাবে কি হলো তাদের?

বিখ্যাত ফটোগ্রাফার Nick Brandt তার “Across the Ravaged Land“ বইয়ের জন্য তোলা বেশকিছু চিত্রকর্ম ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। তার ভাষ্যমতে, ওই এলাকার বিরাজমান জীবন্ত প্রাণীরা অত্র পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তবে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে কিছু প্রজাতির পাখি এবং বাদুড়ের মৃতদেহের দেখা পান যা নাট্রন হ্রদের পাড় ধরে ধুয়ে পানির সহিত চলে আসছিলো। কেউই জানতো না আসলে কিভাবে তারা মারা যায়, তবে তার মতে পানির ক্ষারীয়তা এতো বেশি যা তার এক বাক্স কোডেক ফিল্ম রীলের কালি পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে মাত্র ২-৩ সেকেন্ড এর মতো সময় নিবে। তিনি ওইসব প্রাণীদের মৃতদেহ হ্রদের পাড়ে খুঁজে পান এবং তাদের এমন অবস্থানে বসান যেগুলো দেখে মনে হয় এখনো তারা জীবিত আছে আর তাদের স্বস্থানে বিরাজ করছে। সাদাকালো ফিল্টারে ছেঁকে তোলা ছবিগুলো দেখলে আপনারও উৎসুক মনে নানাধরনের প্রশ্নের জন্ম নিবে, আসলেই কি এভাবে ফুটিয়ে তোলা আদৌ সম্ভব?

Across the Ravaged Land“ বই
Source: Nick Brandt: Photography

তার বইয়ে ব্যাপারটাকে তিনি ফুটিয়ে তুলেন, “Reanimated, Alive Again in Death” শব্দ যুগলের মাধ্যমে।

মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের করাল গ্রাস আজ তাঞ্জানিয়ার নাট্রন হ্রদকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

বর্তমানে কেনিয়া ইয়াসো নাইগ্রো নদীর ধারে হাইড্রোইলেক্ট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে পাওয়ার প্লান্ট হতে প্রচুর পরিমাণে নির্গত কেমিক্যালের ফলে নাট্রন হ্রদের লবণাক্ততার ভারসাম্য রক্ষায় মারাত্মক বাধাগ্রস্ত করবে এবং এ কারণে নাট্রন হ্রদ পড়বে হুমকির মুখে।

তাছাড়া অন্যদিকে সোডিয়াম সালফেটের মিশ্রণে তৈরি “সোডা এ্যাশ প্লান্ট” যা তাঞ্জানিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং ইন্ডিয়ার টাটা কেমিক্যাল লিমিটেড এর যৌথ উদ্যোগে ওয়াশিং পাউডার তৈরি করবে যা হ্রদের সোডিয়াম কার্বোনেট হতে সংগ্রহ করা হবে এবং প্লান্টটি হ্রদটির কূলেই স্থাপিত হওয়ার অপেক্ষায়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই পদক্ষেপ নাট্রন হ্রদের জন্য অন্যতম আরেকটি বিপদের হাতছানি।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, এইসব পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নাই যার কারণে নাট্রন হ্রদের জীববৈচিত্রতায় বিপর্যয় ঘটবে। বিশেষত পূর্ব আফ্রিকার ফ্ল্যামিংগ যাদের প্রজনন ক্ষেত্র এই হ্রদটি। এমন বৈরি সিদ্ধান্তের ফলে জীব বৈচিত্র্য অচিরেই বিলুপ্ত হবে।

পৃথিবীর বুকে নাট্রন হ্রদ সবচেয়ে নিষ্ঠুর প্রকৃতির এক স্থান যা তীব্র মাত্রার ক্ষারীয়তা এবং উচ্চ তাপমাত্রার দরুন তার ভূপৃষ্ঠে অভ্যস্ত প্রাণী ব্যতীত অন্য কারও বেঁচে থাকা বেশ দুষ্কর। গভীর লাল এবং আলতো কমলা রঙের পানির মোহে পড়ে উক্ত হ্রদকে অতিথিপরায়ণ মনে করে সাঁতার কাটতে নামলেই মৃত্যু অবধারিত। যার জন্যে নাট্রন হ্রদে সাঁতার কাঁটা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক জনবসতি নদী-হ্রদের ধারে, বন্ধ্যা-অনুর্বর, পাথুরে ভূমিতে গড়ে উঠার উদাহরণ রয়েছে তবে নাট্রন হ্রদের ইতিহাস পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয়, কেউ কখনো নাট্রন হ্রদের পাড়ে বাস করতে চায় নাই, চাইবেও না।

নাট্রন হ্রদের টিকে থাকাটা পৃথিবীর ইকোব্যালেন্সের জন্য অত্যন্ত জরুরী। কারণ সাইনোব্যাক্টেরিয়া হ্রদকে কিছু প্রজাতির প্রাণীকে উক্ত স্থানে বসবাসে অভ্যস্ত করে তুলেছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক ফ্লামিংগ এবং বহু প্রজাতির মাছ যারা স্বচ্ছ পানিতে কখনোই বাঁচতে পারবে না। তাছাড়া, উক্ত হ্রদে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হলে হ্রদের ব্যালেন্সিং নষ্ট হয়ে পড়বে এবং তাঞ্জানিয়ার অনেকেই বর্তমানে সোচ্চার এই হ্রদে নদী হতে স্বচ্ছ পানি সরবরাহের বিপক্ষে। যদি এই হ্রদের লবণাক্ততা কমতে শুরু করে তবে সাইনোব্যাক্টেরিয়ার উৎপাদন কমে যাবে এবং তা বসবাসরত লক্ষাধিক ফ্লামিংগের জীবন বিপন্ন করে তুলবে। পাশাপাশি পাখিদের বসবাস বিনষ্ট করার কুফল ভালো কিছু বয়ে আনবে না পৃথিবীর প্রাত্যহিক নিয়মে। যার ফলাফল, বিশ্ব হারাবে অনিন্দ্য ভয়ংকর সুন্দর এক লবণাক্ত এই আশ্চর্য হ্রদ যার নাম “নাট্রন হ্রদ”।

পৃথিবী বিখ্যাত কিছু মনোবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা

পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় বোধ হয় মানুষের মন। এই মন নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানীদের করা কিছু এক্সপেরিমেন্ট তথা পরীক্ষা পাল্টে দিয়েছে মানুষের মন নিয়ে চিরন্তন ধারণা। সেরকমই কিছু পরীক্ষার কথা আজ বলবো।

A Class Divided

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেটের স্কুল শিক্ষক জেন এলিয়ট তার শিক্ষার্থীদের উপর এই এক্সপেরিমেন্টটি চালান। মার্টিন লুথার কিংয়ের চিন্তাধারা তাকে সবসময় প্রভাবিত করত। ১৯৬৮ সালে যখন মার্টিন লুথার কিংকে খুন করা হয় তারপর থেকেই তিনি তার ছাত্র-ছাত্রীদের বর্ণবাদ, বৈষম্য এই ব্যাপারগুলো বোঝাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হচ্ছিলো না। তারা আগের মতোই মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অবজ্ঞার চোখেই দেখে যাচ্ছিল।

জেন এলিয়ট তার ক্লাসে

এলিয়ট তার শিক্ষার্থীদের উপর দুইদিনব্যাপী একটি এক্সপেরিমেন্ট চালালেন। প্রথমে তিনি তার ক্লাসটিকে দুটি গ্রুপে ভাগ করলেন। প্রথম গ্রুপে রাখলেন যাদের চোখের রং নীল এবং দ্বিতীয় গ্রুপে রাখলেন যাদের চোখের রং বাদামী। প্রথম দিন তিনি প্রথম গ্রুপ অর্থাৎ যাদের চোখের রঙ নীল তাদেরকে বাদামী চোখের শিক্ষার্থীদের চেয়ে সুপিরিয়র তথা উঁচু মর্যাদার বলে ধরে নিলেন এবং বেশি সুযোগ সুবিধা দিতে শুরু করলেন। এমনকি তিনি এক গ্রুপের শিক্ষার্থীদেরকে অন্য গ্রুপের শিক্ষার্থীদের সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করে দিলেন। দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যদের আরও কোণঠাসা করার জন্য তিনি তাদের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি সবার সামনে বর্ণনা করতে শুরু করলেন।

এর ফলাফল হলো খুবই চমকপ্রদ। প্রথম গ্রুপের শিক্ষার্থীরা অর্থাৎ যারা নিজেদেরকে এখন সুপিরিয়র ভাবে তাদের আচরণ খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে লাগল। তারা ক্লাসে এখন সবচেয়ে মনোযোগী এবং কোন কিছু না বুঝলে তারা সাথে সাথে প্রশ্ন করে। ক্লাস টেস্টেও তারা দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যদের চেয়ে অনেক ভাল করল। সবথেকে মন খারাপ করা যে ব্যাপারটা ঘটল তা হলো, তারা তাদের দ্বিতীয় গ্রুপের বন্ধুদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করল এবং তাদের উপর এক ধরনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে লাগল। অন্যদিকে দ্বিতীয় গ্রুপের শিক্ষার্থীরা হীনমন্যতায় ভুগতে লাগল এবং সবদিক থেকে পিছিয়ে পড়তে লাগল।

পরীক্ষা চলছে শিক্ষার্থীদের উপর

পরের দিন এলিয়ট একই এক্সপেরিমেন্ট চালালেন। কিন্তু এবার যাদের চোখের রঙ বাদামী তাদেরকে নীল চোখের শিক্ষার্থীদের চেয়ে সুপিরিয়র হিসেবে ধরে নিলেন। তখন ফলাফলও উল্টে গেল। অর্থাৎ নীল চোখ যাদের তারা সবকিছুতে পিছিয়ে পড়তে লাগল।

এই এক্সপেরিমেন্টটি তখনকার সময়ে খুবই আলোচিত হয়। পরীক্ষাটি করার সময়কার ভিডিওগুলো নিয়ে ২৫ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করা হয় যার নাম ‘The Eye of the Storm’। এছাড়া ‘A Class Devided’ নামে আরও একটি ডকুমেন্টারি আছে একই বিষয়ের উপর। এই এক্সপেরিমেন্টটি আমাদেরকে বোঝাতে পারে যে সমাজে যারা অবহেলিত তারা কেন পিছিয়ে পড়ে এবং নানা অপরাধের সাথে যুক্ত হয়।

Asch Conformity Study

এখন যে পরীক্ষার কথা বলব সেটির সারকথা হলো এই যে, সংখ্যাগুরুদের ভ্রান্ত বিশ্বাসও মানব মনের কাছে সঠিক মনে হয় যদিও সে জানে যে তারা ভুল।

ড. সলোমন অ্যাশ ১৯৫১ সালে এই পরীক্ষাটি করেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের তিনি একটি কার্ড দেখান যেখানে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের তিনটি সরলরেখা আঁকা আছে। এরপর তিনি তাদেরকে আরও একটি কার্ড দেখান যেখানে একটি সরলরেখা আঁকা ছিল। দ্বিতীয় কার্ডের সরলরেখাটির দৈর্ঘ্য পরিস্কারভাবেই প্রথম কার্ডের তিনটির যেকোনো একটির সমান এবং বাকি দুটোর দৈর্ঘ্য হয় এর থেকে বড় না হয় ছোট।

ডানের ছবির তৃতীয় রেখাটি প্রথম ছবির রেখার সমান

এরপর তিনি তাদেরকে খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। তা হলো, দ্বিতীয় কার্ডের সরলরেখাটি প্রথম কার্ডের কোন সরলরেখাটির মতো দেখতে? খুবই সোজা একটি প্রশ্ন এবং এখানে ১,০০০ জনকেও এই প্রশ্ন করা হলে ১০০% ক্ষেত্রে সঠিক উত্তরটি পাওয়া উচিত।

মজার ব্যাপার হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের একটি গ্রুপের মধ্যে মাত্র একজন বাদে বাকি সবাই ছিলেন ড. সলোমনের নিজের লোক।তাদেরকে আগে থেকেই বলা হয়েছিল ভুল উত্তর দিতে। সবশেষে যখন প্রকৃত অংশগ্রহণকারীকে একই প্রশ্ন করা হল তখন দেখা গেল সেই একজন বাকি সবার উত্তরে বিভ্রান্ত হয়ে গেল।

ড. সলোমনের পরীক্ষা

যদিও সে খুব পরিস্কার ভাবেই জানে যে কোন সরলরেখাটি সবচেয়ে বড়, তবুও সে অন্যদের ভুল উত্তরগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভুল উত্তর দিল। এই এক্সপেরিমেন্ট এটাই প্রমাণ করে, মানুষ সবসময় চায় অন্য সবার মতো হতে যদিও সে আসলে তাদের চেয়ে উৎকৃষ্ট কেউ হতে পারত।

Kitty Genovese Case

১৯৬৪ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে নিজ অ্যাপার্টমেন্টের সামনে কিটি জেনোভেস নামের এক নারীকে প্রকাশ্যে উপুর্যুপুরি ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। সেটি ছিল ওই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি।

কিটি জেনোভেস (সাদাকালো থেকে রঙিন করা ছবি)

কেন সেটি এত আলোচিত? কারণ The New York Times দাবি করেছিল যে, ওই সময়ে ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিল প্রায় ৩৭-৩৮ জনের মতো, যাদের কেউ ওই নারীকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি। এরপর থেকেই এই ঘটনা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়। কেন সাধারণত জনাকীর্ণ একটি জায়গায় কেউ বিপদে পড়লে আশেপাশের কেউ সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে না? এর উত্তর বুঝতে হলে দুটি বিষয়ের সাথে পরিচিত হতে হবে। ‘Diffusion of Responsibility’ এবং ‘Bystander Effect’।

‘Diffusion of Responsibility’ এবং ‘Bystander Effect’ কীভাবে কাজ করে মানুষের মধ্যে

এমন ক্ষেত্রে সবাই ভাবে, অন্য সবাই তো আছে সাহায্য করার জন্য, আমি কেন ঝামেলায় জড়াবো নিজেকে? পরবর্তীতে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, তুমি যত বেশি মানুষের সামনে বিপদে পড়বে তোমার সাহায্য পাবার সম্ভাবনা তত কম। কারণ তখন সবার মধ্যে কাজ করে Diffusion of Responsibility এবং Bystander Effect। আমরা একটু চারপাশে তাকালেই এই নির্মম সত্যটুকু উপলব্ধি করতে পারব। এরকম ঘটনা আমাদের চারপাশে অহরহই ঘটছে। American Psychologist পরবর্তীতে একটি গবেষণা প্রকাশ করে Kitty Genovese Case এর মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাপারগুলো নিয়ে।

Violinist at the Metro Experiment

জশুয়া বেল (Joshua Bell) একজন গ্র্যামিজয়ী ভায়োলিনবাদক। ভায়োলিনে তার বেশ কিছু বিখ্যাত সৃষ্টি আছে। তার রচিত একটি Piece (স্বরলিপি) আছে যেটিকে ধরা হয় পৃথিবীর সবথেকে জটিল এবং অপূর্ব সৃষ্টিগুলোর একটি।

জশুয়া বেল

এই এক্সপেরিমেন্টটি করার তিনদিন আগে তিনি বোস্টনের একটি থিয়েটারে বাজিয়েছিলেন, যেখানে তার ভায়োলিনের বাজনা শোনার জন্য প্রতি শ্রোতাকে সিটপ্রতি গুণতে হয়েছিল ১০০ ডলারের মতো করে।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও ওয়াশিংটন ডিসির L’Enfant Plaza মেট্রো সাবওয়ে স্টেশনে ছিল অনেক ভিড়। আর তারই মধ্যে মেট্রোর প্রবেশপথে মাথায় একটি বেজবল ক্যাপ পরে জশুয়া বেল বাজাচ্ছিলেন ভায়োলিন যা শোনার জন্য শিল্পপ্রেমীরা ১০০ ডলার খরচ করতেও পিছপা হয় না। তিনি ৪৫ মিনিটের মতো বাজিয়েছিলেন। পুরো ঘটনাটি একটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। যেখানে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ১,০৯৭ জন লোক তার সামনে দিয়ে চলে গিয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৭ জন কিছুক্ষণের জন্য থেমেছিল তার ভায়োলিন বাজানো শুনতে এবং কেবলমাত্র একজন তাকে চিনতে পেরেছিল।

জশুয়া বেল বাজাচ্ছেন সাবওয়েতে

সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপারটি কী জানেন? এই ৪৫ মিনিটের পারফরমেন্স দিয়ে তিনি পথচারীদের কাছ থেকে আয় করতে পেরেছিলেন মাত্র ৩২.১৭ ডলার। মজার ব্যাপার হল, যে ভায়োলিনটি তিনি বাজিয়েছিলেন তার মূল্যই ছিল ৩৫ লক্ষ মার্কিন ডলার!

এই এক্সপেরিমেন্টটি করেন The Washington Post এর Gene Weingarten নামের একজন কলামিস্ট। ২০০৮ সালে তিনি পুলিৎজার পুরষ্কার পান এই সংক্রান্ত একটি ফিচার লিখে। এই পরীক্ষাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে সাধারণ মানুষ তার চারপাশে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলোকে কত কম গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে।

Fantz’s Looking Chamber

একটি সদ্যোজাত শিশুর মন কীভাবে কাজ করে? তারা কীভাবে চিন্তা করে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Robert L. Fantz ১৯৬১ সালে খুবই সহজ কিন্তু যুগান্তকারী একটি পরীক্ষা করেন সদ্যোজাত শিশুদের নিয়ে।

তিনি একটি বোর্ডে ৪টি ছবি সংযুক্ত করেন। যেগুলো এক-একটি প্যাটার্ন নির্দেশ করে। সেগুলো ছিলো Bulls-Eye(শুটিং এর জন্য ব্যবহৃত টার্গেট), প্রিন্ট করা সাদা-কালো কিছু লেখা, একটি প্যাটার্ন যেটি দেখতে দুটি চোখের মতো এবং মানুষের মুখাবয়বের একটি স্কেচ। তারপর তিনি এগুলোকে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে দেন যাতে নিচে শুয়ে থাকা শিশুটি সহজেই এই ছবিগুলো দেখতে পারে।

শিশুটিকে নিচে শুইয়ে দিয়ে পরীক্ষক এভাবেই দেখেন সে কোন ছবির দিকে তাকাচ্ছে

এরপর তিনি লক্ষ্য করতে লাগলেন কোন ছবিটি শিশুটিকে বেশি আকৃষ্ট করে। তিনি ধরে নিয়েছিলেন যে ছবিগুলো শিশুরা সাধারণত কম দেখে সেগুলোই তাদের আকৃষ্ট করবে সবচেয়ে বেশি। যেমন- Bulls-Eye।

কিন্তু বিস্ময় নিয়ে তিনি লক্ষ্য করলেন, শিশুটি অন্য সব ছবিগুলো থেকে মানুষের স্কেচটির দিকে অনেক বেশিক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছে। যাদের সে সবসময়ই দেখে। পরবর্তীতে তিনি বলেন যে, শিশুরা মানুষের অবয়ব বুঝতে পারার ক্ষমতা নিয়েই জন্মায়। যারা তার দেখাশোনা করবে সেই মানুষের মতো দেখতে কোনো কিছুতেই তারা সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাবে।

শিশুরা কেমন ছবির দিকে বেশি তাকায় তার পরিসংখ্যান

একটি মানবশিশু যেখান থেকে যেভাবে চিন্তা করে সেখান থেকেই হয়তো সব রহস্যের শুরু। পরিণত বয়সের মানুষের চিন্তা-ভাবনা এত সরল নয়, আমরা সব সময় যৌক্তিক কাজগুলো করি না।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এমন সব সিদ্ধান্ত নেয় যেগুলো মনে হতে পারে অকল্পনীয়। এই মনোবৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগুলো আমাদেরকে নিজেদের নিয়েই নতুন করে ভাবতে শেখায়।

তথ্যসূত্র

onlinepsychologydegree.info
en.wikipedia.org
apa.org
washingtonpost.com


Processor এর Core ব্যাপারটা কি আসলে



আমরা যখন একটা ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ কিনতে যাই তখন সবথেকে বেশি জোর দেই Processor এর উপর। কিন্ত আমরা কি আসলে জানি processor এর কোন জিনিষটার উপর আসলে নির্ভর করে সেটির কর্মক্ষমতা? সব থেকে বেশি অজ্ঞ থাকি এই “Core” ব্যাপারটা নিয়ে। আমরা নিজেরাও আসলে বুঝে উঠতে পারি না আমাদের কোনটা প্রয়োজন, ডুয়াল কোর, কোয়াড কোর, হেক্সা কোর না অকটা কোর। আজকে দেখি কিছু ব্যবচ্ছেদ করতে পারি নাকি এই ব্যাপারটার।

বি:দ্র: আজকে শুধুমাত্র ডেস্কটপ/ল্যাপটপের processor নিয়ে আলোচনা করছি। স্মার্টফোনের processor নিয়ে অন্য একদিন করবো।

প্রথমেই সহজ কিছু ব্যাপার ক্লিয়ার হয়ে নেওয়া যাকঃ

১/ একটা processor এর মধ্যে একটা chip ই থাকে। সেই চিপের মধ্যে ১/২/৪/৬/৮ টা কোর থাকে।

২/ এই মুহুর্তে আপনি হাইয়েস্ট ১৮ core এর chip সমৃদ্ধ processor পাবেন বাজারে। মানে এইটাই সবথেকে আপডেটেড processor বাজারের।

৩/ একটা chipএর প্রত্যেকটা core হচ্ছে একেকটি CPU(central processing unit)। মানে আপনার processorএর করা কাজগুলা এই coreগুলা করে থাকে। মানে এই coreগুলা নষ্ট হয়ে গেলে আপনার processorও নষ্ট হয়ে যাবে, processor কোন কাজ করতে পারবে না।

Speed of the processor: 

সাধারণ যুক্তিতে তাহলে কি বলতে পারি? একটা processorএর core যত বেশি হবে processor তত বেশি স্পিডি হবে। তাই না? আসলে ব্যাপারটা এত সহজও না। হ্যাঁ। বেশি coreসমৃদ্ধ chip processorএর স্পিডের  উপর প্রভাব ফালায় কিন্ত সেটা একটু অন্যভাবে। ধরেন আপনি একটা কাজ করছেন। আর আপনার processorএ core আছে ৮টি। এখন ওই কাজটি যদি তার নিজেকে এই ৮টি core এর মধ্যে ভাগ করে দিতে পারে তবেই আপনি বলতে পারবেন ওই স্পেসিফিক কাজের জন্য আপনার processorএর স্পিড বেশি।

এর বাইরে coreএর clockspeed বলে একটা কথা আছে। সেই clockspeedও processorএর স্পিড বাড়ানো কমানোতে প্রভাব ফালায়। একটা বেশি clockspeedওয়ালা ডুয়াল কোরের processor কমclockspeedওয়ালা কোয়াড কোরের processorএর থেকে বেশি স্পিডি হবে।

Processor’s cache memory:

processorএর নিজস্ব কিছু মেমরি থাকে যেটিতে processor ক্ষণিকের জন্য তার কাজের সুবিধার্থে কিছু তথ্য জমা রাখে। RAM যেভাবে টেম্পোরারিলি কিছু ডাটা স্টোর করে রাখে নিজের প্রয়োজনের স্বার্থে ঠিক তেমনি processorএর cache memoryও নিজের মধ্যে কিছু ডাটা রাখে। cache memory’র লেভেল থাকে L1, L2, L3, L4 এইরকমভাবে। L1, L2, L3, L4 cache memory তে যথাক্রমে প্রসেসরের প্রত্যেকটা কোরে 64kb, 256kb, 20mb, 128mb করে জায়গা থাকে। সাধারণত এখনকার ল্যাপটপ/পিসিতে 3/4mb cache memory সমৃদ্ধ processor থাকে।

Power consumption: 

একটা processorএ core যত বেশি হবে তাতে বিদ্যুৎও তত বেশী লাগবে কারন processor চালু হলে প্রত্যেকটা coreএ আলাদা আলাদা করে বিদ্যুৎ প্রবাহ হয়। সুতরাং স্বভাবতই কোয়াড coreএর একটা processorএর ল্যাপটপ/ডেস্কটপের বিদ্যুৎ খরচ ডুয়াল coreএর একটা processorএর ল্যাপটপ/ডেস্কটপের থেকে বেশী হবে। যদিও চিপমেকাররা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী chip তৈরি করার চেষ্টা করছেন processorএর জন্য। দেখা যাক কি হয় সামনে!

Heat generated by the processor: 

এইখানেও সহজ হিসাব। বেশি coreওয়ালা processor বেশি গরম হবে। কম coreওয়ালা processor কম হবে। যদিও এখন পিসির সাথে বিভিন্ন heat sink, cooling system থাকে processorকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য।

Price:

 বেশি coreওয়ালা পিসির দাম বেশি ব্যাপারটা এমন না। উপরে clockspeedএর কথা বলেছি। এইটাও processorএর দাম নির্ধারণ করে। এর বাইরে আর্কিটেকচারাল ভার্সন, জেনারেশন ইত্যাদিও দাম নির্ধারণ করায়।

Relation of software with the speed of processor: 

উপরে একবার বলেছি, আপনি আপনার processorএ কোন সফটওয়্যার চালাচ্ছেন সেটার উপরেও নির্ভর করবে আপনি কেমন স্পিডি processor পাবেন। আপনার সফটওয়্যার যদি chipএর coreগুলার সবগুলাকে ব্যাবহার করে তবে আপনি বেশি স্পিড পাবেন। এই ধরনের সফটওয়্যারকে বলে multi-threaded software। দুঃখের বিষয় এইরকম সফটওয়্যার অহরহ নাই যেইগুলা chipর সবগুলা coreকে ব্যাবহার করে।

Adobe premier pro, google chrome ইত্যাদি multi-threaded softwareগুলার মধ্যে অন্যতম।  যেমন Adobe premier pro তে আপনি কোন ভিডিও এডিট করলে সফটওয়্যারটি chipএর বিভিন্ন coreকে ভিডিও এডিটের বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার করে বিধায় কাজ করার সময় পিসি হ্যাং করে না। যদি হ্যাং করে থাকে তবে বুঝতে হবে উক্ত সফটওয়্যার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় coreসমৃদ্ধ chipওয়ালা processor আপনি ব্যাবহার করছেন না।

এখন একটু বিশ্লেষণ করি কি কাজের জন্য কি ধরনের processor দরকার। আমাদের প্রয়োজন না হওয়ার পরেও সীমিত জ্ঞানের কারনে প্রয়োজনীয় processor ব্যাবহার না করে শুধু দাম দেখেই processor কিনে পিসি/ল্যাপটপে লাগিয়ে ফেলি। দেখি এখন, কি কাজে কোন processor লাগানো যায়।

Gaming: 

গেমারদের জন্য বেশি coreসমৃদ্ধ processor দরকার। কারন বেশিরভাগ হাই কোয়ালিটির গেইম multi-threaded। সুতরাং একজন গেমারের অবশ্যই বেশি coreসমৃদ্ধ processor ব্যাবহার করা উচিৎ.

Video or audio editing: 

ভিডিও/অডিও এডিটররাও সাধারণত বেশি coreসমৃদ্ধ processor ব্যাবহার করে কারন তাদের বেশিরভাগ সফটওয়্যারই multi-threaded software

Photoshop and design:

যারা ফটোশপের কাজ করেন তাদের বেশি coreএর থেকে বেশি প্রয়োজন বেশি ক্লকস্পিড ও বেশি cache memory সমৃদ্ধ প্রসেসরের। কারন ইনাদের বেশিরভাগ সফটওয়্যার single-threaded। সুতরাং তাদের বেশিরভাগ সফটওয়্যার একটাcore ব্যাবহার করেই কাজ শেষ করে। সুতরাং বেশি coreএর  processorএর খুব বেশি প্রয়োজন তাদের nei. সতরাং তাদের ক্লক স্পিড আর cache memory’র উপরে নজর দেওয়াটাই বেশি দরকার.

এর বাইরে ওয়েব ব্রাউজিং অথবা অফিসিয়াল কাজে খুব বেশি coreসমৃদ্ধ processorএর প্রয়োজন নেই কারন এগুলার বেশিরভাগ কাজই single-threaded। মানে একটা core ব্যাবহার করেই কাজ করে এরা। তাই অযথা বেশি দাম দিয়ে বেশি coreসমৃদ্ধ processor কিনলে খুব বেশি লাভ হবে না আপনার কারন এরা একটা core ব্যাবহার করেই কাজ করবে।